ডিটারেন্স থিওরি ও ওভারকনফিডেন্স বায়াসঃ
🧊🧊🧊🧊🧊🧊🧊🧊🧊🧊🧊🧊🧊
আধুনিক অপরাধবিজ্ঞানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো —ডিটারেন্স থিওরি এবং ওভারকনফিডেন্স বায়াস।
ডিটারেন্স থিওরি বলে: অপরাধী যদি মনে করে যে ধরা পড়ার সম্ভাবনা (Certainty) বেশি এবং শাস্তি যথেষ্ট কঠিন, তাহলে সে অপরাধ করবে না। এটি মূলত বাইরের নিয়ন্ত্রণ (পুলিশ, আইন, শাস্তির ব্যবস্থা) এর উপর নির্ভর করে।
অন্যদিকে,
ওভারকনফিডেন্স বায়াস বলে:
অপরাধী যদি মনে করে “আমি অন্যদের চেয়ে স্মার্ট, আমি অপরাধ করে ধরা পড়ব না”, তাহলে সে অপরাধ করতে উৎসাহিত হয়। এটি এক ধরনের কগনিটিভ বায়াস (cognitive bias)।
ফলে, ডিটারেন্স থিওরি অপরাধ কমানোর চেষ্টা করে, আর ওভারকনফিডেন্স বায়াস অপরাধ বাড়ানোর একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ডিটারেন্স থিওরির প্রধান সীমাবদ্ধতা
🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹
ডিটারেন্স থিওরির দুটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো:
• ওভারকনফিডেন্স বায়াস থাকলে এই তত্ত্ব অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না।
• আবেগপ্রবণ, মাদকাসক্ত ব্যক্তি বা অপরিকল্পিত অপরাধের ক্ষেত্রে এর প্রভাব অনেক কম।
সারকথা: ডিটারেন্স থিওরি বাইরে থেকে অপরাধ কমাতে চায়, কিন্তু ওভারকনফিডেন্স বায়াস সেই প্রচেষ্টাকে ভিতর থেকে দুর্বল করে দেয়। তাই আধুনিক অপরাধবিজ্ঞান বলে — শুধু শাস্তির ভয় দেখালে চলবে না, অপরাধীর মানসিক বায়াস (বিশেষ করে ওভারকনফিডেন্স) কমানোর উপায়ও খুঁজতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা
🔸🔸🔸🔸🔸
১. Thomas A. Loughran et al. (2013)�শিরোনাম: “A Good Man Always Knows His Limitations: The Role of Overconfidence in Criminal Offending”�প্রকাশিত: Journal of Research in Crime and Delinquency
মূল ফলাফল:
• যুবকদের মধ্যে বড় একটি অংশ ওভারকনফিডেন্ট — তারা নিজের ধরা পড়ার ঝুঁকিকে অন্যদের চেয়ে অনেক কম মনে করে।
• যেসব গুরুতর অপরাধী ওভারকনফিডেন্সে ভোগে, তারা বেশি অপরাধ করে এবং বেশি বার ধরা পড়ে।
• এই বায়াস সেল্ফ-অ্যাট্রিবিউশন বায়াস ও বায়েসিয়ান আপডেটিং-এর সাথে যুক্ত। সফলভাবে অপরাধ করে পার পেলে ঝুঁকির অনুভূতি আরও কমে যায়।
• এটি ডিটারেন্স থিওরির Certainty (ধরা পড়ার নিশ্চয়তা)-কে দুর্বল করে দেয়।
২. Anwar & Loughran (2011)অপরাধীরা নতুন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ঝুঁকির অনুভূতি আপডেট করে। যারা অপরাধ করে ধরা পড়ে না, তাদের ঝুঁকির অনুভূতি অনেক কমে যায় — যা ওভারকনফিডেন্স বাড়ায় এবং ডিটারেন্সকে দুর্বল করে।
বাস্তব প্রয়োগ
♦️♦️♦️♦️
ফলে কোনো অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড থাকলেও, যদি ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে, তাহলে সেই অপরাধ বারবার ঘটতে দেখা যায়। কারণ এখানে শাস্তির ভয়ের চেয়ে ধরা না পড়ার ওভারকনফিডেন্স বেশি কাজ করে। আবার আইনের শাসনের অভাব শাস্তির ভয় কমায় এবং ওভারকনফিডেন্স বাড়ায়।
বিশ্বের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ দেশে বর্তমানে ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট বা মৃত্যুদণ্ড নেই এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেসব দেশে তুলনামূলকভাবে অপরাধের হার কম। কারণ সেখানে ধরা পড়ার সম্ভাবনা ও আইনের শাসন অনেক বেশি কার্যকর।
উদাহরণ স্বরূপ - এই অষ্ট্রেলিয়ায় ১৯৮৫ সাল থেকে ( কুইন্সল্যান্ডে ১৯২২ সাল থেকে, নিউ সাউথ ওয়েলস ১৯৫৫ সাল থেকে) পুরো দেশে মৃত্যুদন্ড নিষিদ্ধ, যে সকল মানুষ ফেসবুকে প্রকাশ্যে বাংলাদেশে ঘৃন্য অপরাধীদের মৃত্যুদন্ড দেয়ার জন্য আস্ফালন করে ও মনে করে ভয়ানক শাস্তির ভয়ে অপরাধী অপরাধ কমিয়ে দেবে তারাও অনেকে অষ্ট্রেলিয়ায় মৃত্যুদন্ডের মত ভয়ানক শাস্তি নেই জেনেও সুযোগ পেয়েই লাফ দিয়ে নির্ভয়ে স্থায়ী বসবাস করতে শুরু করে- কারণ তারাও আসলে জানে ও মানে - অপরাধী ওভারকনফিডেন্স বায়াসড কম হবার মানে ধরা না পড়ার মানসিকতা তাস কম কাজ করে কারণ আইনের শাসন ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারীরদের তৎপরতা তুলনামূলক বেটার । ফলে মৃত্যুদন্ডের ভয় না থাকলেও ধরা পড়ার ভয় অপরাধ করার কনফিডেন্স হয়তো কমিয়ে দেয় ।
(❔)
এত কথার মোদ্দা কথা - কেবল শাস্তির ভয় অপরাধ কমাতে পারেনা বলেই আধুনিক অপরাধ বিজ্ঞানে আলোচনা করা হয় । ১৪৫ এর মত দেশে মৃত্যুদন্ড না থাকার সেটা যেমন কারণ আরেকটা কারণ হলো শাস্তি প্রতিশোধমূলক না রেখে সংশোধন মূলক ও প্রতিরোধমূলক করা।
তাছাড়া মৃত্যু দেয়ার চেয়ে কারাগারে ভরে তিলে তিলে মানসিক যন্ত্রনা দেয়াও অনেকে মনে করেন বড় শাস্তি ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন